![]() |
| থাইল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়া |
১০ জনের থাইল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়া
দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান! দীর্ঘ এক দশক পর থাইল্যান্ডকে হারিয়ে উদ্বোধনী 'ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬'-এর শিরোপা ঘরে তুলল ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ১০ জনের থাইল্যান্ডকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ও নাটকীয়তা
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় ছিল, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের উপহার দেয় চরম উত্তেজনা। ম্যাচের মূল আকর্ষণগুলো ছিল:
- লিড নেয় ইন্দোনেশিয়া: ম্যাচের ৮৪ মিনিটে জেমসের একটি ফ্রি-কিক থাইল্যান্ডের সানরন ইখলাসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
- ১০ জনের থাইল্যান্ডের চমক: একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলা সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি থাইরা। মাত্র তিন মিনিট পর (৮৭ মিনিটে) সেই ইখলাসই গোল করে থাইল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান এবং ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান।
- অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলার: অতিরিক্ত সময়ে (১১১ মিনিটে) পিরাপল চামরাসামি গোল করে থাইল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ইন্দোনেশিয়ার হার যখন প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১৬ মিনিটে এলকান ব্যাগট দুর্দান্ত এক গোল করে স্বাগতিকদের অবিশ্বাস্যভাবে ২-২ সমতায় ফেরান।
পেনাল্টি শুটআউটে গোলরক্ষক এমিল অদেরোর বীরত্ব
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হলে নিজেদের স্নায়ুচাপ দারুণভাবে ধরে রাখে ইন্দোনেশিয়া। স্বাগতিকদের হয়ে জেমস, ব্যাগট, প্যাটিনামা এবং ডিকস—চারজনই সফলভাবে বল জালে জড়ান।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের অধিনায়ক সারাচ ইউয়েনের নেওয়া শটটি দুর্ভাগ্যবশত পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর থাই খেলোয়াড় নাটাপং সাইরিয়ার নেওয়া শটটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার গোলরক্ষক এমিল অদেরো দলের ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এবং ফাইনালের নায়ক বনে যান।
নতুন ইতিহাস ও প্রতিক্রিয়া
এই জয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া শুধু উদ্বোধনী আসিয়ান কাপের শিরোপাই জিতল না, বরং থাইল্যান্ডের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ ও দীর্ঘ এক দশকের জয়খরাও কাটাল।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ইন্দোনেশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PSSI) চেয়ারম্যান এরিক তোহির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন:
"নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দল ২০২৬ ফিফা আসিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। খেলোয়াড়, কোচ এবং আপামর জনগণকে ধন্যবাদ যারা কখনোই বিশ্বাস হারায়নি।"
উদ্বোধনী আসিয়ান কাপের এই ট্রফি জয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
