অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম বাড়ানোর ৯টি সহজ উপায়

how-to-increase-volume-on-android
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম কম? সেটিংস, ইকুয়ালাইজার, বুস্টার অ্যাপ ও স্পিকার পরিষ্কারের সহজ উপায়ে সাউন্ড বাড়ান।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম বাড়ানোর ৯টি সহজ উপায়

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম বাড়ানোর ৯টি কার্যকর উপায় (সেটিংস, অ্যাপ ও সহজ কৌশল)

কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ভিডিও দেখতে গিয়ে বা ফোনে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই বিরক্ত হন, কারণ ফোনের আওয়াজ কিছুতেই যথেষ্ট জোরালো হয় না। ইউটিউবে পডকাস্ট শুনছেন, অথচ স্পিকার থেকে শুধু ফিসফিস আওয়াজ আসছে। স্পিকারফোনে কথা বলার সময় ওপাশের কথা বোঝা যাচ্ছে না। এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে।

এ জন্য নতুন ফোন কেনার দরকার নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটা হার্ডওয়্যারে থাকে না। থাকে সেটিংসে, পুরনো অভ্যাসে, কিংবা স্পিকারের ফুটোয় জমে থাকা ময়লায়। সঠিক পদ্ধতি জানলে একই ফোন থেকে আগের চেয়ে অনেক জোরালো ও পরিষ্কার সাউন্ড পাওয়া সম্ভব।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে দেখব ফোনের আওয়াজ কেন কম হয়, বিল্ট-ইন সেটিংস দিয়ে কীভাবে বাড়ানো যায়, কোন অ্যাপগুলো কাজে লাগে, ব্লুটুথ ডিভাইসের ভলিউম কীভাবে ঠিক করবেন এবং স্পিকার কীভাবে নিরাপদে পরিষ্কার করবেন।

আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম কম কেন?

সমাধানে যাওয়ার আগে কারণটা বুঝে নেওয়া ভালো। তাহলে কোন পদ্ধতি আপনার কাজে লাগবে, তা সহজে বোঝা যাবে।

১. শ্রবণ সুরক্ষার জন্য নির্মাতার নিয়ন্ত্রণ

স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর কানের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ ভলিউমের একটা সীমা বেঁধে দেয়। বিশেষ করে হেডফোন বা ইয়ারফোন লাগালে এই সীমা বেশি কড়াকড়ি করা হয়। অনেক দেশে স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি নিয়মের কারণেও এটা করতে হয়। তাই কিছু ফোনে ভলিউম একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে সতর্কবার্তা আসে। সেটা নিশ্চিত না করলে আওয়াজ আর বাড়ে না।

২. আলাদা আলাদা ভলিউম নিয়ন্ত্রণ

অ্যান্ড্রয়েডে মিডিয়া, কল, রিংটোন, নোটিফিকেশন ও সিস্টেম সাউন্ডের ভলিউম আলাদাভাবে চলে। অনেকে সাইডের বাটন চেপে ভাবেন সব ভলিউম বেড়ে গেছে। আসলে হয়তো কেবল রিংটোনের ভলিউম বেড়েছে, আর ভিডিও বা গানের মিডিয়া ভলিউম আগের জায়গাতেই আছে।

৩. স্পিকারের ফুটোয় জমে থাকা ময়লা

ফোনের নিচে বা ওপরে স্পিকারের যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, সেখানে পকেটের সুতো, ধুলো, তেলতেলে ময়লা আর ঘামের শুকনো দাগ ধীরে ধীরে জমে। কয়েক মাসে এই স্তর এতটাই ঘন হয়ে যায় যে শব্দ তরঙ্গ ঠিকমতো বাইরে আসতে পারে না। ফোন ঠিকই আছে, কিন্তু আওয়াজ চাপা শোনায়।

৪. ফোনের কেস ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা

মোটা কেসের স্পিকার কাটআউট ছোট বা ভুল জায়গায় থাকলে শব্দ আটকে যায়। ফোন বিছানায় বা নরম কিছুর ওপর রাখলেও সাউন্ড অনেক কমে যায়।

প্রথমে ফোনের বিল্ট-ইন সাউন্ড সেটিংস দেখুন

অ্যাপ ইনস্টল করার আগে ফোনের ভেতরের সেটিংসগুলো একবার ঠিকভাবে দেখে নিন। অনেক সময় এতেই সমস্যা মিটে যায়।

পদ্ধতি ১: প্রতিটি ভলিউম স্লাইডার আলাদাভাবে ঠিক করুন

ভলিউম আপ বাটন চাপলে স্ক্রিনে ছোট একটা স্লাইডার আসে। সবাই সেটাকেই শেষ পর্যন্ত টেনে ছেড়ে দেন। কিন্তু ওই স্লাইডারের পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ট্যাপ করলে পূর্ণ অডিও প্যানেল খুলে যায়।

সেখানে মিডিয়া, কল, রিংটোন, নোটিফিকেশন ও সিস্টেম সাউন্ডের আলাদা স্লাইডার পাবেন। এর মধ্যে মিডিয়া ও কল স্লাইডার একদম ডানদিকে সরিয়ে দিন।

আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন। ইউটিউব, স্পটিফাই বা নেটফ্লিক্সের মতো অ্যাপেও আলাদা অডিও সেটিংস থাকতে পারে। কিছু অ্যাপে ভলিউম নরমালাইজেশন চালু থাকে, যা হঠাৎ জোরালো শব্দ আটকাতে সাউন্ডের উঁচু অংশ চেপে দেয়। এতে মোট আওয়াজও কিছুটা কম শোনায়। এমন অপশন থাকলে সেটা বন্ধ করে দেখতে পারেন।

পদ্ধতি ২: মিডিয়া ভলিউম লিমিটার বন্ধ করুন

কিছু ফোনে, বিশেষ করে স্যামসাংয়ের One UI-তে, Media Volume Limiter নামে একটা সুবিধা আছে। এতে হেডফোন বা স্পিকারের সর্বোচ্চ ভলিউম একটা সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায়, এমনকি পিন দিয়ে লকও করা যায়। উদ্দেশ্য হলো অসাবধানে ক্ষতিকর মাত্রার আওয়াজ থেকে কানকে বাঁচানো।

আপনার ফোনে এটা চালু থাকলে সর্বোচ্চ ভলিউমেও আওয়াজ কম মনে হতে পারে। সাউন্ড সেটিংসে গিয়ে এই লিমিটারের অবস্থা দেখে নিন। তবে বন্ধ করলে ভলিউম নিজে সতর্ক হয়ে ব্যবহার করবেন।

পদ্ধতি ৩: ডলবি অ্যাটমস ও সাউন্ড ইফেক্ট চালু করুন

স্যামসাং, মটোরোলা, শাওমি, ওয়ানপ্লাসের মতো ব্র্যান্ডের অনেক আধুনিক ফোনে নিজস্ব অডিও প্রসেসিং সুবিধা থাকে, যেমন Dolby Atmos বা Dirac Sound। ঠিকভাবে সেট করলে এগুলো সাউন্ডের ডাইনামিক রেঞ্জ বাড়ায়। ফলে গান আর সংলাপ আরও স্পষ্ট ও জোরালো শোনায়।

যেভাবে চালু করবেন:

  1. ফোনের Settings খুলুন।
  2. Sound & vibration অপশনে যান।
  3. Sound quality and effects (ব্র্যান্ডভেদে নাম আলাদা হতে পারে) খুঁজে বের করুন।
  4. Dolby Atmos চালু করুন।
  5. মোড হিসেবে অটো না রেখে ভিডিওর জন্য Movie আর গানের জন্য Music বেছে নিন।

ইকুয়ালাইজার দিয়ে সাউন্ড আরও জোরালো করুন

ইকুয়ালাইজার (EQ) দিয়ে সাউন্ডের আলাদা আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি, অর্থাৎ গভীর বেস, মাঝারি ভোকাল আর তীক্ষ্ণ ট্রেবল, আলাদাভাবে কমানো-বাড়ানো যায়। এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলো ঠিকভাবে সাজালে অতিরিক্ত অ্যাপ ছাড়াই স্পিকারের আওয়াজ লক্ষণীয়ভাবে ভালো শোনায়।

⚠ একটা জরুরি সতর্কতা: ভলিউম বাড়াতে গিয়ে শুধু নিচের বেস ফ্রিকোয়েন্সি অতিরিক্ত বাড়াবেন না। ফোনের ছোট স্পিকার গভীর সাব-বেস তৈরি করতে পারে না। জোর করে বেস বাড়ালে স্পিকার কর্কশ ও ফাটা ফাটা আওয়াজ দেয়। বরং মাঝারি ফ্রিকোয়েন্সি (ভোকাল ও সংলাপের অংশ) একটু বাড়ালে কথা স্পষ্ট শোনা যায়, ফলে মোট আওয়াজও বেশি মনে হয়।

ভলিউম বাড়ানোর সেরা কয়েকটি অ্যাপ

বিল্ট-ইন সেটিংসে যথেষ্ট না হলে কিছু বিশেষ অ্যাপ সাউন্ড সিগন্যাল সিস্টেমের সীমার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পদ্ধতি ৪: Volume Booster GOODEV

গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া হালকা ও জনপ্রিয় ভলিউম বুস্টারগুলোর একটি হলো Volume Booster GOODEV। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে এবং আপনার স্ক্রিনে একটা অতিরিক্ত "Boost" স্লাইডার যোগ করে।

ব্যবহারে সতর্কতা:

  • সাধারণত স্লাইডার ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ালেই শান্ত পডকাস্ট বা সিনেমার জন্য যথেষ্ট জোরালো সাউন্ড পাওয়া যায়।
  • বুস্ট অতিরিক্ত বাড়ালে সাউন্ড কর্কশ ও কেটে কেটে (ক্লিপিং) শোনায়।
  • ছোট ফোন স্পিকারে বেশি বুস্ট দিয়ে দীর্ঘ সময় চালালে স্পিকারের ভেতরের ডায়াফ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পদ্ধতি ৫: VLC মিডিয়া প্লেয়ারের অডিও বুস্ট

ফোনে সংরক্ষিত ভিডিও বা অডিও ফাইল চালানোর সময় VLC for Android একটি চমৎকার সমাধান। এর অডিও সেটিংসে Audio boost অপশন আছে, যা চালু করলে ফাইলের ভলিউম অ্যান্ড্রয়েডের সাধারণ সীমার ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যায়। যাদের ডাউনলোড করা মুভি বা রেকর্ড করা ভিডিওর আওয়াজ কম, তাদের জন্য এটি দারুণ কাজের।

পদ্ধতি ৬: Flat Equalizer ও বেস বুস্টার

Flat Equalizer একটি সহজ গ্রাফিক্যাল অ্যাপ। এতে ১০ ব্যান্ডের ইকুয়ালাইজার, বেস বুস্টার, লাউডনেস এনহান্সার ও ভার্চুয়ালাইজার একসঙ্গে পাওয়া যায়। এর Loudness Enhancer কম আওয়াজের অংশগুলোকে স্পষ্ট করে, আর খুব জোরালো অংশগুলোকে সামান্য চেপে দেয়। ফলে সিনেমার ফিসফিসে সংলাপও শোনা যায়, ভলিউম অতিরিক্ত বাড়াতে হয় না।

 মনে রাখবেন: যেকোনো অ্যাপ ইনস্টলের আগে রিভিউ, ডাউনলোড সংখ্যা ও চাওয়া পারমিশন দেখে নিন। শুধু গুগল প্লে স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে অ্যাপ নামান।

ভলিউম বাড়ানোর পদ্ধতিগুলোর তুলনা

পদ্ধতি বিস্তারিত
Dolby Atmos / বিল্ট-ইন টুল বৃদ্ধি: মাঝারি (১০–২০%)
মান: স্পষ্টতা বাড়ে
নিরাপত্তা: সম্পূর্ণ নিরাপদ
কাদের জন্য: প্রতিদিনের গান ও ভিডিও
সিস্টেম ইকুয়ালাইজার বৃদ্ধি: মাঝারি (১৫–২৫%)
মান: সংলাপ পরিষ্কার হয়
নিরাপত্তা: সম্পূর্ণ নিরাপদ
কাদের জন্য: পডকাস্ট, কল, গান
Volume Booster GOODEV বৃদ্ধি: বেশি (৩০–৬০%)
মান: বেশি বুস্টে কিছুটা বিকৃতি
নিরাপত্তা: সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুন
কাদের জন্য: কম আওয়াজের ফাইল ও মুভি
Absolute Volume বন্ধ করা বৃদ্ধি: বেশি (ব্লুটুথে)
মান: মূল মান বজায় থাকে
নিরাপত্তা: নিরাপদ
কাদের জন্য: ব্লুটুথ ইয়ারবাড ও স্পিকার
VLC ২০০% অডিও বুস্ট বৃদ্ধি: বেশি (প্রায় দ্বিগুণ)
মান: পরিষ্কার ডিজিটাল গেইন
নিরাপত্তা: নিরাপদ
কাদের জন্য: ফোনে রাখা ভিডিও ও অডিও

(শতাংশের হিসাবগুলো আনুমানিক। ফোনের মডেল ও কনটেন্টভেদে ফল আলাদা হতে পারে।)

ছোট ছোট অভ্যাসে সাউন্ড আরও পরিষ্কার ও জোরালো করুন

কখনো সফটওয়্যারের চেয়ে ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই ভালো ফল মেলে। নিচের কৌশলগুলো চেষ্টা করে দেখুন।

  1. নরম ব্রাশ দিয়ে স্পিকারের গ্রিল পরিষ্কার করুন। পকেটের সুতো আর ধুলো স্পিকারের ছিদ্র আটকে দেয়। একটা নরম ব্রিসলের পুরনো টুথব্রাশ দিয়ে খুব আলতো করে ছিদ্রের ওপর ব্রাশ করুন।
  2. স্পিকারের পেছনে হাতের তালু বাঁকিয়ে রাখুন। ফোনের নিচের স্পিকারের পাশে তালু বাঁকিয়ে ধরলে শব্দ সামনে, অর্থাৎ আপনার কানের দিকে ফেরে। এটা খুব সহজ আর দ্রুত কাজ করে।
  3. মনো অডিও চালু করুন। শুধু একটা স্পিকার থেকে শুনলে স্টেরিও সাউন্ডের কিছু অংশ হারিয়ে যেতে পারে। অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংসে Mono audio চালু করলে দুই চ্যানেলের শব্দই একসঙ্গে শোনা যায়।
  4. মিডিয়া চালানোর সময় ব্যাটারি সেভার বন্ধ রাখুন। ব্যাটারি সেভার অনেক সময় অডিও অ্যামপ্লিফায়ারের শক্তি কমিয়ে দেয়, ফলে সর্বোচ্চ আওয়াজও কমে যায়।
  5. ফোন একটা খালি কাঁচের গ্লাস বা সিরামিকের বাটিতে রাখুন। এটা প্রাকৃতিক মেগাফোনের মতো কাজ করে এবং ব্যাটারি খরচ ছাড়াই শব্দ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। জরুরি অবস্থায় বেশ কাজের কৌশল।
  6. স্পিকারের ছিদ্র আটকে দেওয়া কেস বদলান। স্পিকারের কাটআউট খুব ছোট বা ভুল জায়গায় থাকলে শব্দ ঠিকমতো বের হয় না। কেস খুলে বা পরিবর্তন করে দেখুন আওয়াজে কোনো পার্থক্য আসে কি না।

ব্লুটুথ হেডফোন ও স্পিকারের ভলিউম বাড়ান

ফোনের নিজস্ব স্পিকারে আওয়াজ ঠিক আছে, কিন্তু ব্লুটুথ ইয়ারবাড, ক্যারের স্পিকার বা ওয়্যারলেস হেডফোনে আওয়াজ কম? তাহলে সমস্যা সম্ভবত অ্যান্ড্রয়েডের ব্লুটুথ ব্যবস্থাপনায়।

Absolute Volume কী?

অ্যান্ড্রয়েডে Absolute Volume নামে একটি ফিচার আছে। এটি ফোনের ভলিউম স্লাইডারকে সরাসরি ব্লুটুথ ডিভাইসের নিজস্ব অ্যামপ্লিফায়ারের সঙ্গে জুড়ে দেয়। সুবিধাজনক ব্যবস্থা হলেও কিছু ব্র্যান্ডের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে ফোন আর ব্লুটুথ ডিভাইসের দুই ভলিউম নিয়ন্ত্রণ অমিল হয়ে যায়। ফলে হেডফোন অর্ধেক ভলিউমেই আটকে থাকে।

সমাধান: Absolute Volume বন্ধ করুন

এ জন্য প্রথমে ডেভেলপার অপশন চালু করতে হবে।

  1. Settings খুলুন এবং নিচে স্ক্রল করে About phone-এ যান।
  2. Build number লেখাটি খুঁজে নিন এবং দ্রুত পরপর ৭ বার ট্যাপ করুন।
  3. পিন বা পাসওয়ার্ড চাইলে ফোনের লক স্ক্রিনের পিন দিন।
  4. Settings-এ ফিরে System-এ যান, তারপর Developer options খুলুন।
  5. তালিকায় Disable absolute volume অপশনটি খুঁজে বের করুন।
  6. এটি চালু (On) করে ফোন রিস্টার্ট করুন।

ফোন চালু হওয়ার পর ফোনের ভলিউম আর ব্লুটুথ ডিভাইসের ভলিউম আলাদাভাবে চলবে। এবার ফোনের ভলিউম সর্বোচ্চ করুন এবং হেডফোন বা স্পিকারের নিজস্ব বাটন দিয়েও ভলিউম বাড়ান। দেখবেন আগের চেয়ে অনেক জোরালো আওয়াজ আসছে।

⚠ সতর্কতা: ডেভেলপার অপশনে অন্য সেটিংসে অযথা হাত দেবেন না। শুধু প্রয়োজনীয় অপশনটি পরিবর্তন করুন।

স্পিকারের গ্রিল নিরাপদে পরিষ্কার করার নিয়ম

ফোনের আওয়াজ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অথচ উপেক্ষিত কারণ হলো জমে থাকা ময়লা। গত এক বছরে আপনার ফোনের আওয়াজ লক্ষণীয়ভাবে কমে থাকলে সম্ভবত স্পিকারের গ্রিলই দায়ী।

✔ যা করবেন

  • নরম ব্রিসলের শুকনো ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষুন।
  • ধুলো বের করতে কাছ থেকে হালকা করে ফুঁ দিতে পারেন, তবে জোরে নয়।
  • প্রয়োজনে একটা শুকনো কটন বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন।

✖ যা কখনো করবেন না

  • সুই, সেফটি পিন, সেলাইয়ের যন্ত্র বা ধারালো ধাতব কিছু স্পিকারের ছিদ্রে ঢোকাবেন না। ভেতরের পাতলা জলরোধী অ্যাকোস্টিক জালি বা স্পিকারের ডায়াফ্রাম সহজেই ছিঁড়ে বা ফুটো হয়ে যেতে পারে।
  • সরাসরি পানি বা তরল ক্লিনার ঢালবেন না।
  • কমপ্রেসড এয়ার খুব কাছ থেকে জোরে দেবেন না। এতে ভেতরের অংশ নষ্ট হতে পারে।

কান ও ফোনের হার্ডওয়্যার সুরক্ষার দিকে খেয়াল রাখুন

ফোনের আওয়াজ জোরালো করা ভালো, কিন্তু সেটা নিরাপদ পদ্ধতিতে হওয়া জরুরি।

কানের সুরক্ষা

  • দীর্ঘ সময় খুব উঁচু ভলিউমে, বিশেষ করে ইয়ারফোন বা হেডফোনে, গান শুনলে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে।
  • ভলিউম বাড়ানোর পর কান ব্যথা করলে বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে সঙ্গে সঙ্গে ভলিউম কমিয়ে দিন এবং বিরতি নিন।
  • সম্ভব হলে অল্প অল্প করে ভলিউম বাড়ান, একবারে সর্বোচ্চে নয়।

স্পিকারের সুরক্ষা

  • ছোট স্মার্টফোন স্পিকারকে বারবার সর্বোচ্চ সীমায় চালালে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
  • বুস্টার অ্যাপ ব্যবহারের সময় স্পিকারে ঝনঝন, ভনভন বা কর্কশ আওয়াজ হলে সঙ্গে সঙ্গে বুস্ট কমান। কেটে যাওয়া সাউন্ড (ক্লিপিং) এই বিপদের স্পষ্ট লক্ষণ।
  • স্পিকার গরম হয়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ রেখে ঠান্ডা হতে দিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: ভলিউম বুস্টার অ্যাপ কি ফোনের ক্ষতি করে?
সঠিকভাবে সীমিত মাত্রায় ব্যবহার করলে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত বুস্ট দিয়ে দীর্ঘক্ষণ চালালে স্পিকার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কম মাত্রায় শুরু করুন।

প্রশ্ন ২: হেডফোনে আওয়াজ কম কেন?
অনেক ফোনে হেডফোনের জন্য আলাদা সর্বোচ্চ সীমা থাকে। মিডিয়া ভলিউম লিমিটার চালু আছে কি না দেখুন। ব্লুটুথ ডিভাইস হলে Absolute Volume-এর সমস্যাও থাকতে পারে।

প্রশ্ন ৩: স্পিকার পরিষ্কার করার পরও আওয়াজ কম থাকলে কী করব?
প্রথমে সব ভলিউম স্লাইডার ঠিক আছে কি না আর ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করা আছে কি না দেখুন। তারপরও সমস্যা থাকলে স্পিকারে হার্ডওয়্যার ত্রুটি থাকতে পারে। তখন সার্ভিস সেন্টারে দেখানো ভালো।

প্রশ্ন ৪: সব ফোনে কি Dolby Atmos পাওয়া যায়?
না। এটি নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ড ও মডেলে পাওয়া যায়। না থাকলে ইকুয়ালাইজার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

প্রশ্ন ৫: ভলিউম বুস্ট করলে সাউন্ডের মান খারাপ হয় কেন?
স্পিকার বা অ্যামপ্লিফায়ারের একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেই সীমার বাইরে সিগন্যাল পাঠালে সাউন্ড বিকৃত হয়। একেই ক্লিপিং বলে।

শেষ কথা

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভলিউম বাড়ানো তেমন জটিল কিছু নয়। প্রথমে আলাদা আলাদা ভলিউম স্লাইডার, মিডিয়া ভলিউম লিমিটার আর Dolby Atmos-এর মতো বিল্ট-ইন সেটিংস দেখুন। এরপর ইকুয়ালাইজার ঠিক করুন এবং স্পিকারের গ্রিল পরিষ্কার করুন। ব্লুটুথ ডিভাইসে সমস্যা হলে Absolute Volume বন্ধ করুন। এতেও না হলে কম বুস্টে VLC বা Volume Booster GOODEV-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করুন।

মনে রাখবেন, বেশি জোরালো মানেই ভালো নয়। কান ও স্পিকার দুটোর সুরক্ষার দিকে খেয়াল রেখে পরিমিত ভলিউমে গান, ভিডিও আর কল উপভোগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এই টিপসগুলো কাজে লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন, আর কোনো পদ্ধতিতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্টে জানান।

 আপনার ফোনের স্পিকার পরিষ্কার করতে চান?

স্পিকার পরিষ্কার করে ফোনের সাউন্ড আরও জোরালো করতে নিচের লিংকে যান:

 Android Volume Booster & Phone Speaker Cleaner 

About the author

Author

Masum Billah

আসসালামু আলাইকুম! আমি মাসুম বিল্লাহ, 'Priyo Topic' ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও কন্টেন্ট রাইটার। প্রযুক্তি, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনের দরকারি নানান তথ্য সহজ ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। নিত্যনতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে সাথেই থাকুন!

Post a Comment

কমেন্ট করতে Enter Comment ক্লিক করুন

Join the conversation