![]() |
| জিরো রিটার্ন দাখিল ২০২৬-২৭: ঘরে বসে অনলাইনে নিজে করার সহজ গাইড |
জিরো রিটার্ন কী? ঘরে বসে অনলাইনে নিজে দাখিল করার সহজ গাইড (২০২৬-২৭ করবর্ষ)
📌 জিরো রিটার্ন নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকে "আয়কর রিটার্ন" শুনলেই ভাবেন, টাকা দিতে হবে। আসলে রিটার্ন মানে আপনার আয়, সম্পদ ও দায়ের হিসাব সরকারকে জানানো। হিসাব শেষে প্রদেয় কর শূন্য এলে তাকে বলে জিরো রিটার্ন। অর্থাৎ আপনি রিটার্ন দিলেন, কিন্তু কোনো কর দিতে হলো না।
টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট থাকলে প্রতি বছর রিটার্ন দাখিল করতে হয়, আয় না থাকলেও। তাই যাদের টিআইএন আছে, তাদের জন্য এই গাইড।
⚠️ "জিরো" মানে সবকিছু শূন্য নয়
মনে রাখুন: জিরো রিটার্নে কর শূন্য হয়, তথ্য নয়।
জিরো রিটার্নের সবচেয়ে বড় ভুল হলো আয় নেই ভেবে সব ঘর ফাঁকা রাখা, এমনকি সম্পদ বা খরচও শূন্য দেখানো। আপনার প্রকৃত আয়, ব্যাংক ব্যালেন্স, সম্পদ, দায় ও জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন আছে তেমনই দিতে হবে। ভুল বা গোপন তথ্য দিলে পরে জরিমানা ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
🗂️ শুরুর আগে যা হাতে রাখবেন
রিটার্ন পূরণের আগে এগুলো গুছিয়ে নিন, কাজ অনেক দ্রুত হবে:
- ✅ ১২ ডিজিটের টিআইএন
- ✅ জাতীয় পরিচয়পত্র
- ✅ আপনার নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর (যেটি এনআইডির সঙ্গে বায়োমেট্রিকভাবে যুক্ত)
- ✅ ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যালেন্সের তথ্য
- ✅ চাকরিজীবী হলে বেতনের সনদ বা পে-স্লিপ
- ✅ জমি, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র, ঋণ থাকলে তার কাগজ
- ✅ বছরের মোটামুটি খরচের হিসাব (বাসা ভাড়া, খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি)
💰 করমুক্ত আয়ের সীমা কত?
২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা আয় করমুক্ত। অন্যদের ক্ষেত্রে সীমা কিছুটা বেশি:
| করদাতার ধরন | করমুক্ত সীমা |
|---|---|
| সাধারণ করদাতা | ৪,০০,০০০ টাকা |
| নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী | ৪,৫০,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি | ৫,২৫,০০০ টাকা |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা | ৫,৫০,০০০ টাকা |
প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে অভিভাবক আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়তি ছাড় পান। বাবা-মা দুজনেই করদাতা হলে এই সুবিধা একজনই নিতে পারেন।
(সীমা বা নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে, তাই এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একবার মিলিয়ে নিন।)
🖥️ ধাপে ধাপে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল
ধাপ ১: ই-রিটার্ন পোর্টালে ঢুকুন
এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টাল (etaxnbr.gov.bd) খুলুন। আগে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। নতুন হলে টিআইএন, এনআইডি ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট খুলুন।
ধাপ ২: রিটার্ন সাবমিশন বেছে নিন
লগইনের পর "রিটার্ন সাবমিশন" অপশনে যান। এখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, আয়ের খাত, সম্পদ ও দায়ের ঘরগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করবেন। একসঙ্গে শেষ করতে না পারলে প্রতিটি ধাপ সেভ করে পরে আবার ফিরে আসতে পারবেন।
ধাপ ৩: আয়ের তথ্য দিন
চাকরি, ব্যবসা, ভাড়া, ব্যাংক সুদ বা অন্য যেকোনো উৎস থেকে আয় থাকলে সংশ্লিষ্ট ঘরে লিখুন, আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও। আয়ের উৎস না থাকলে সেটিও সৎভাবে উল্লেখ করুন।
ধাপ ৪: সম্পদ, দায় ও ব্যয়ের হিসাব দিন
ব্যাংক হিসাব, জমি, গাড়ি, স্বর্ণ, ঋণ এবং বছরের জীবনযাত্রার খরচ এই অংশে যায়। দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায় দুটোই দেখাতে হয়।
ধাপ ৫: কর ও পেমেন্ট অংশ মিলিয়ে নিন
সব তথ্য দেওয়ার পর সিস্টেম নিজেই প্রদেয় কর হিসাব করবে। প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী এটি শূন্য এলে আপনার রিটার্নটি জিরো ট্যাক্স রিটার্ন। কোনো উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর দিয়ে থাকলে সেটি এই অংশে যোগ করতে ভুলবেন না।
ধাপ ৬: রিটার্ন ভিউ দেখে যাচাই করুন
সাবমিটের আগে "রিটার্ন ভিউ"-তে পুরো রিটার্নটি দেখে নিন। নাম, টিআইএন, আয়, সম্পদ, দায় ও কর ঠিক আছে কিনা মিলিয়ে দেখুন। ভুল থাকলে এখানেই সংশোধন করুন।
ধাপ ৭: সাবমিট করে স্লিপ সংরক্ষণ করুন
সব ঠিক থাকলে সাবমিট করুন। সাবমিটের সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ (Acknowledgement Slip) পাবেন এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেটও তৈরি হবে। এগুলো ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন বা প্রিন্ট করে রাখুন। ব্যাংক, ভিসা বা ঋণের আবেদনে এগুলো কাজে লাগে।
🚫 যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- আয় নেই ভেবে সম্পদ ও খরচের ঘর ফাঁকা রাখা
- আগের বছরের তথ্য হুবহু কপি করা
- ব্যাংক ব্যালেন্স বা ঋণ বাদ দেওয়া
- উৎসে কাটা করের তথ্য না দেওয়া
- সাবমিটের আগে রিটার্ন ভিউ না দেখা
- শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা, কারণ শেষ মুহূর্তে সার্ভারে চাপ বাড়ে
🎁 জিরো রিটার্নে কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে কি?
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে কর প্রণোদনার সুযোগ থাকে। তবে প্রণোদনা নির্ভর করে আপনার প্রদেয় করের ওপর। প্রদেয় কর শূন্য হলে ছাড় পাওয়ার মতো কিছু থাকে না, তাই জিরো রিটার্নে টাকা ফেরত পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। রিটার্ন দাখিলের চলতি সময়সীমা এনবিআরের ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
আয় না থাকলেও কি রিটার্ন দিতে হবে?
হ্যাঁ, টিআইএন থাকলে দিতে হবে।
নিজে দিতে পারব, নাকি কর আইনজীবী লাগবে?
সাধারণ আয় হলে নিজেই দেওয়া যায়। আয়ের উৎস জটিল হলে (একাধিক চাকরি, ব্যবসা, বিদেশি সম্পদ) কর পরামর্শকের সাহায্য নিতে পারেন।
ভুল তথ্য দিয়ে ফেললে কী করব?
সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ আছে। নিয়ম এনবিআরের নির্দেশনায় দেখে নিন।
✍️ শেষ কথা
জিরো রিটার্ন ঝামেলার কিছু নয়। হাতে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে ২০–৩০ মিনিটেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে কাজটি শেষ করা যায়। শুধু মনে রাখবেন, কর শূন্য হতে পারে, কিন্তু তথ্য অবশ্যই সঠিক হতে হবে।
