![]() |
| অ্যান্ড্রয়েডের সেরা লক স্ক্রিন অ্যাপ |
অ্যান্ড্রয়েড লক স্ক্রিন অ্যাপ: নিরাপত্তা ও স্টাইলের জন্য সেরা প্রিমিয়াম অ্যাপ বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
ফোন হাতে নিলে সবার আগে আমরা যে স্ক্রিনটি দেখি, সেটি হলো লক স্ক্রিন। অন্য কেউ আপনার ফোন হাতে পেলেও তার চোখে প্রথমে এই স্ক্রিনটাই পড়বে। বেশিরভাগ ফোনে পিন, প্যাটার্ন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো সুরক্ষা আগে থেকেই থাকে। তবুও অনেকেই চান মেসেজের প্রিভিউ আরও ভালোভাবে লুকাতে, নিজের পছন্দমতো উইজেট বসাতে, কিংবা স্ক্রিনটাকে একটু আলাদা চেহারা দিতে। এই কাজে থার্ড-পার্টি লক স্ক্রিন অ্যাপ বেশ সাহায্য করতে পারে।
তবে বাজারে শত শত অ্যাপ আছে, আর সবগুলো সমান নির্ভরযোগ্য নয়। কোনোটি দেখতে সুন্দর হলেও অকারণে অনেক পারমিশন চায়, কোনোটি আবার ব্যাটারি খেয়ে ফেলে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব লক স্ক্রিন অ্যাপ আসলে কী, কীভাবে কাজ করে, কেন লক স্ক্রিনে প্রাইভেসি জরুরি, ভালো অ্যাপে কোন ফিচার থাকা উচিত, কীভাবে নিরাপদ অ্যাপ বেছে নেবেন, এবং অ্যাপ ছাড়াই কীভাবে ফোনের সুরক্ষা বাড়ানো যায়।
অ্যান্ড্রয়েড লক স্ক্রিন অ্যাপ কী?
লক স্ক্রিন অ্যাপ হলো এমন একটি সফটওয়্যার, যা ফোন আনলক করার আগের স্ক্রিনের চেহারা ও কাজের ধরন বদলে দেয়। অ্যাপ ভেদে এতে পাওয়া যেতে পারে নতুন ঘড়ির ডিজাইন, আবহাওয়ার তথ্য, ক্যামেরার শর্টকাট, আলাদা ধরনের পিন প্যাড কিংবা বাড়তি যাচাইয়ের ধাপ।
আগের দিনের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে একটি বাইরের অ্যাপ পুরো সিস্টেম লক স্ক্রিনটিই বদলে দিতে পারত। কিন্তু ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষিত রাখতে গুগল এখন এ বিষয়ে অনেক কড়াকড়ি করেছে। তাই আধুনিক ফোনে এসব অ্যাপ সাধারণত মূল লক স্ক্রিনের ওপর একটি অতিরিক্ত স্তর (ওভারলে) হিসেবে কাজ করে।
ওভারলে কীভাবে কাজ করে?
ওভারলে মানে হলো অ্যাপটি ফোনের মূল স্ক্রিনের ওপর আরেকটি স্বচ্ছ বা সাজানো স্তর বসিয়ে দেয়। ফলে আপনি যা দেখেন তা অ্যাপের তৈরি ডিজাইন, কিন্তু নিচে ফোনের নিজস্ব সিস্টেম লক তখনও সক্রিয় থাকে। এজন্যই অ্যাপ বন্ধ বা নষ্ট হয়ে গেলেও ফোনের মূল সুরক্ষা সরে যায় না। বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি, কারণ কোনো অ্যাপই ফোনের হার্ডওয়্যার-ভিত্তিক সুরক্ষার জায়গা পুরোপুরি নিতে পারে না।
লক স্ক্রিনে প্রাইভেসি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সারাদিন ফোনে একের পর এক নোটিফিকেশন আসতে থাকে। ফোন টেবিলে বা মিটিংয়ে পাশে রাখা থাকলে সেই নোটিফিকেশনগুলো আশেপাশের যে কেউ পড়ে ফেলতে পারে। সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকলে লক স্ক্রিনে এসব তথ্য ফাঁস হতে পারে:
- মেসেঞ্জার ও চ্যাট অ্যাপের ব্যক্তিগত মেসেজের প্রিভিউ
- ব্যাংকিং লেনদেনের কোড ও ওটিপি (OTP)
- ইমেইলের প্রেরকের নাম ও বিষয়
- মিসড কল ও কলারের নাম
- ক্যালেন্ডার, রিমাইন্ডার ও লোকেশন সংক্রান্ত নোট
কোন নোটিফিকেশনে কতটুকু তথ্য দেখা যাবে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখলে অন্যের উঁকিঝুঁকি থেকে সহজেই বাঁচা যায়। ব্যক্তিগত কথাবার্তা তখন ফোন আনলক করার পরই কেবল দেখা যাবে।
কার জন্য এটি বেশি জরুরি?
- অফিসে কাজ করা মানুষ: মিটিং বা ডেস্কে ফোন উপুড় না করে রাখলে সহকর্মীরা কাজের মেসেজ দেখে ফেলতে পারেন।
- শিক্ষার্থী: হোস্টেল বা শেয়ার করা ঘরে ফোন রাখলে ব্যক্তিগত চ্যাট অন্যের চোখে পড়তে পারে।
- অনলাইন লেনদেনকারী: মোবাইল ব্যাংকিং ও পেমেন্ট অ্যাপের ওটিপি লক স্ক্রিনে দেখা গেলে টাকা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
- যাদের ফোনে ছবি ও ব্যক্তিগত ফাইল বেশি: ফোন হারালে বা চুরি গেলে প্রথম বাধা হয় লক স্ক্রিন।
একটি ভালো লক স্ক্রিন অ্যাপে যে ফিচারগুলো থাকা উচিত
১. শক্তিশালী লক পদ্ধতি
ভালো অ্যাপে একাধিক সুরক্ষা স্তর থাকে, যেমন অক্ষর-সংখ্যার মিশ্রণে পাসওয়ার্ড, জটিল পিন কিংবা প্যাটার্ন। বিশেষ করে এলোমেলো কিপ্যাড (প্রতিবার সংখ্যার জায়গা বদলে যায়) বেশ কার্যকর। এতে কেউ আপনার আঙুলের নড়াচড়া দেখে বা স্ক্রিনে জমে থাকা তেলের দাগ দেখে পিন আন্দাজ করতে পারে না।
২. নোটিফিকেশন প্রাইভেসি
সেরা অ্যাপগুলো নোটিফিকেশনের ওপর সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। কখনো শুধু প্রেরকের নাম দেখানো যায় কিন্তু মেসেজের লেখা লুকানো থাকে। কখনো শুধু অ্যাপের আইকন দেখা যায়। আবার চাইলে আপনি পরিচয় নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কিছুই দেখানো হয় না।
৩. কাস্টমাইজেশন
অনেকে প্রতিদিনের ফোনটাকে নতুন চেহারা দিতে লক স্ক্রিন অ্যাপ ব্যবহার করেন। সুন্দর ওয়ালপেপার, নানা ধরনের ফন্ট, মিনিমাল ঘড়ি ও পছন্দের শর্টকাট বসানোর সুবিধা এসব অ্যাপে মেলে। তবে সাজসজ্জার জন্য ফোনের স্থিতিশীলতা বা নিরাপত্তার সাথে কখনোই আপস করা উচিত নয়।
৪. অ্যাপ লক সুবিধা
কিছু অ্যাপে আলাদা করে অ্যাপ লক ফিচার থাকে। ফোন খোলার সময় একবার যাচাই হয়, আর গ্যালারি, ব্যাংকিং অ্যাপ বা মেসেজিং অ্যাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ খুলতে আরেকটি পিন লাগে। ফলে ফোন অন্যের হাতে গেলেও সবচেয়ে সংবেদনশীল জিনিসগুলো সুরক্ষিত থাকে।
৫. বায়োমেট্রিক সাপোর্ট
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক এখন প্রায় সব ফোনেই আছে। একটি ভালো লক স্ক্রিন অ্যাপ এই হার্ডওয়্যারের সাথে ঠিকমতো কাজ করবে, বারবার পিন চাইবে না।
৬. হালকা ও দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা
লক স্ক্রিন বারবার খোলা হয়, তাই অ্যাপটি ধীর বা আটকে যাওয়া স্বভাবের হলে প্রতিদিনের ব্যবহার বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। ফোন জাগানোর সাথে সাথে স্ক্রিন যেন দ্রুত সাড়া দেয়, এটিও একটি ভালো অ্যাপের লক্ষণ।
প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক অ্যাপে কী কী দেখবেন
ডাউনলোডের আগে এই বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:
- প্রাইভেসি স্টেটমেন্ট সহজ ভাষায় লেখা এবং তথ্য ব্যবহারের নিয়ম পরিষ্কার
- অ্যাপের কাজের সাথে মানানসই পারমিশন চাওয়া
- নির্ভরযোগ্য ডেভেলপার, যাদের নিয়মিত আপডেট দেওয়ার ইতিহাস আছে
- আপনার অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের সাথে ভালো সামঞ্জস্য
- লক ওভারলে কীভাবে কাজ করে তা স্ক্রিনেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বোঝানো
- বিজ্ঞাপনহীন বা এমন পেইড সংস্করণ, যা আপনার ব্রাউজিং ট্র্যাক করে না
- ক্র্যাশ কম এবং ব্যবহারকারীদের মতামত ধারাবাহিকভাবে ভালো
পারমিশন নিয়ে সতর্কতা
পারমিশন যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। একটি সাধারণ লক স্ক্রিন সাজানোর অ্যাপের মাইক্রোফোন, কল লগ বা লোকেশন হিস্টরি দেখার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। এমন অনুমতি চাইলে বুঝবেন অ্যাপটি তার কাজের চেয়ে বেশি তথ্য চাইছে। নোটিফিকেশন অ্যাক্সেস বা ডিসপ্লে ওভার আদার অ্যাপসের মতো পারমিশন লক স্ক্রিন অ্যাপের জন্য স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু সেটিও বিশ্বস্ত ডেভেলপার ছাড়া দেওয়া ঠিক নয়।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ বনাম অ্যান্ড্রয়েডের বিল্ট-ইন সুরক্ষা
থার্ড-পার্টি লক স্ক্রিন অ্যাপ মূলত একটি অতিরিক্ত স্তর। নোটিফিকেশনের লেখা আড়াল করা, থিম বদলানো বা উইজেট সাজানোর কাজে এগুলো বেশ ভালো। কিন্তু ফোনের স্টোরেজ এনক্রিপশনের মতো মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প এগুলো নয়। তাই কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলেও ফোনের নিজস্ব সিস্টেম লক অবশ্যই চালু রাখুন।
তুলনা: লক স্ক্রিন সুরক্ষার বিভিন্ন উপায়
| সুরক্ষার উপায় | প্রধান কাজ | কোথায় পাওয়া যায় | মনে রাখার বিষয় |
|---|---|---|---|
| অ্যান্ড্রয়েড স্ক্রিন লক | ফোনে ঢোকার অনুমতি নিয়ন্ত্রণ | প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে | মূল নিরাপত্তার ভিত্তি |
| পিন বা পাসওয়ার্ড | অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো | প্রায় সব ফোনে | শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড দিন |
| ফিঙ্গারপ্রিন্ট | দ্রুত পরিচয় যাচাই | সাপোর্টেড ফোনে | ফোনের হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করে |
| নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ | লক স্ক্রিনে দৃশ্যমান তথ্য সীমিত করা | ফোন ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী | ব্যক্তিগত তথ্য লুকাতে কার্যকর |
| থার্ড-পার্টি লক স্ক্রিন অ্যাপ | বাড়তি ডিজাইন ও সুবিধা | অ্যাপ অনুযায়ী ভিন্ন | পারমিশন সাবধানে দেখুন |
| অ্যাপ লক | নির্দিষ্ট অ্যাপে আলাদা সুরক্ষা | ফোন বা অ্যাপ অনুযায়ী | ডিভাইসের মূল সুরক্ষার বিকল্প নয় |
সঠিক লক স্ক্রিন অ্যাপ বাছাই করবেন কীভাবে?
সার্চ রেজাল্টের প্রথম অ্যাপটি নামিয়ে ফেললেই চলে না। বেছে নেওয়ার সময় একটি নিয়ম মেনে চললে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কমে। এই ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- অ্যাপটি আপনার ফোনের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ সমর্থন করে কি না দেখুন।
- ডেভেলপারের প্রোফাইল ও সাম্প্রতিক রেটিং পড়ুন।
- প্রাইভেসি পলিসি পড়ে নিশ্চিত হোন যে আপনার ব্যবহারের তথ্য ট্র্যাক বা বিক্রি করা হচ্ছে না।
- ইনস্টলের সময় অ্যাপ ঠিক কোন কোন সিস্টেম পারমিশন চাইছে তা মিলিয়ে দেখুন।
- অ্যাপটি নিয়মিত আপডেট পায় কি না যাচাই করুন, কারণ আপডেট ছাড়া অ্যাপ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
- ভেবে দেখুন আপনার আসলেই নতুন অ্যাপ লাগবে, নাকি ফোনের সেটিংস বদলালেই কাজ চলবে।
- ইনস্টলের পর কয়েকদিন ব্যবহার করে দেখুন ব্যাটারি দ্রুত ফুরাচ্ছে কি না বা ফোন ধীর হচ্ছে কি না।
প্রতিদিনের প্রাইভেসি বাড়াতে ফোনের যে সেটিংসগুলো বদলাবেন
ফোনের কয়েকটি সেটিং ঠিক করলেই প্রতিদিনের নিরাপত্তায় বড় পার্থক্য আসে। প্রথমে লক স্ক্রিনে সংবেদনশীল নোটিফিকেশনের বিষয়বস্তু না দেখানোর ব্যবস্থা করুন। এতে নোটিফিকেশন যে এসেছে তা বোঝা যাবে, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ পাশের মানুষের চোখে পড়বে না।
দ্বিতীয়ত, লক স্ক্রিন অবস্থায় দ্রুত সেটিংসের ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও এয়ারপ্লেন মোডের টগল বন্ধ রাখুন। এগুলো খোলা থাকলে ফোন হারালে কেউ সহজেই নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ফোনের অবস্থান ট্র্যাক হওয়া এড়িয়ে যেতে পারে।
থার্ড-পার্টি লক স্ক্রিন অ্যাপ কি নিরাপদ?
এর উত্তর পুরোপুরি নির্ভর করে অ্যাপের ডেভেলপার কতটা বিশ্বস্ত এবং অ্যাপটি কী কী পারমিশন চাইছে তার ওপর। নির্ভরযোগ্য ডেভেলপারের তৈরি ভালো অ্যাপ আপনার ফাইল ও তথ্য ঝুঁকিতে না ফেলেই কাস্টমাইজেশনের সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু অচেনা উৎসের মানহীন অ্যাপ বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই অজানা ওয়েবসাইট থেকে এপিকে (APK) ফাইল নামানো এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত অ্যাপ ছাড়াই লক স্ক্রিনের প্রাইভেসি বাড়ানোর উপায়
অনেক সময় নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করেই ফোনের সেটিংস থেকে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়। ধাপগুলো এমন:
- ফোনের সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি অংশটি খুলুন।
- স্ক্রিন লক অপশনে গিয়ে অক্ষর ও সংখ্যার মিশ্রণে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা জটিল পিন সেট করুন।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক যোগ করুন, যাতে নিরাপত্তা বজায় রেখে দ্রুত আনলক করা যায়।
- লক স্ক্রিন নোটিফিকেশনের সেটিংসে গিয়ে "সংবেদনশীল কনটেন্ট লুকান" (Hide sensitive content) অপশনটি চালু করুন।
এই অপশন চালু করলে ওটিপি ও চ্যাটের লেখা আড়ালে থাকবে। সাধারণ সিস্টেম নোটিফিকেশন আগের মতোই দেখা যাবে। ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।
লক স্ক্রিন অ্যাপ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
- ভুল ধারণা: ফ্রি অ্যাপ মানেই বিপজ্জনক। বাস্তবতা: বিশ্বস্ত ডেভেলপারের ফ্রি অ্যাপও নিরাপদ হতে পারে, তবে পারমিশন ও রিভিউ যাচাই জরুরি।
- ভুল ধারণা: অ্যাপ ইনস্টল করলেই ফোন পুরোপুরি নিরাপদ। বাস্তবতা: ফোনের মূল নিরাপত্তা আসে সিস্টেম লক ও এনক্রিপশন থেকে।
- ভুল ধারণা: যত বেশি ফিচার, তত ভালো অ্যাপ। বাস্তবতা: বেশি ফিচারের অ্যাপে অনেক সময় বেশি পারমিশন ও বেশি ব্যাটারি খরচ হয়।
লক স্ক্রিন অ্যাপের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অ্যাপ ঠিকমতো কাজ করছে না
ব্যাটারি সেভার অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা ওভারলে সার্ভিস হঠাৎ বন্ধ করে দেয়। ফোনের সেটিংস থেকে অ্যাপটির জন্য ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন বন্ধ করে দিন, তাহলে অ্যাপ নির্বিঘ্নে চলবে।
অতিরিক্ত পারমিশন চাইছে
কাজের সাথে সম্পর্ক নেই এমন মিডিয়া, কন্টাক্ট বা লোকেশনের অনুমতি চাইলে তা দেবেন না। বরং এমন একটি অ্যাপ খুঁজে নিন যা কম পারমিশনে একই কাজ করে।
নোটিফিকেশন তবুও দেখা যাচ্ছে
কাস্টম লক অ্যাপ চালু থাকলেও কখনো কখনো প্রিভিউ দেখা যায়। কারণ ফোনের নিজস্ব নোটিফিকেশন সেটিং সাধারণত থার্ড-পার্টি অ্যাপের সেটিংয়ের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়। তাই ফোনের মূল সেটিংসটি আগে ঠিক করে নিন।
ব্যাটারি বেশি খরচ হচ্ছে
অ্যানিমেশন, লাইভ ওয়েদার ও চলমান উইজেট সবসময় চালু থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে। স্থির ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করুন এবং উইজেটের সংখ্যা কমিয়ে দিন।
অ্যান্ড্রয়েড আপডেটের পর অ্যাপ কাজ করছে না
বড় সিস্টেম আপডেটের সময় পুরনো ওভারলে অ্যাপ অনেক সময় নতুন নিরাপত্তা নিয়মের সাথে মানাতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায়। গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে অ্যাপটির নতুন সংস্করণ আছে কি না দেখে নিন। না থাকলে বিকল্প অ্যাপ খুঁজতে হতে পারে।
লক স্ক্রিন আরও নিরাপদ রাখার কিছু সহজ টিপস
- কমপক্ষে ৬ সংখ্যার জটিল পিন বা অক্ষর-সংখ্যার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
- জন্মতারিখ বা ১২৩৪৫৬ এর মতো সহজ পিন এড়িয়ে চলুন।
- অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট রাখুন।
- লক স্ক্রিনে সংবেদনশীল নোটিফিকেশনের বিষয়বস্তু লুকিয়ে রাখুন।
- কাস্টমাইজেশনের অ্যাপ শুধু গুগল প্লে স্টোরের মতো বিশ্বস্ত মার্কেটপ্লেস থেকে নামান।
- মাঝে মাঝে অ্যাপগুলোর পারমিশন যাচাই করুন।
- যেসব থিম বা লক স্ক্রিন টুল ব্যবহার করেন না, সেগুলো মুছে ফেলুন।
- ফোন হারালে খুঁজে পেতে গুগলের "Find My Device" সুবিধা চালু রাখুন।
- পাবলিক জায়গায় পিন দেওয়ার সময় স্ক্রিন হাত দিয়ে আড়াল করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: লক স্ক্রিন অ্যাপ কি ফোনের নিজস্ব লকের বিকল্প হতে পারে?
উত্তর: না। এসব অ্যাপ বাড়তি সুবিধা ও সাজসজ্জা দেয়, কিন্তু ফোনের মূল সুরক্ষা ও এনক্রিপশন সিস্টেম লকের ওপরই নির্ভর করে।
প্রশ্ন: ফ্রি অ্যাপ ব্যবহার করা কি ঠিক?
উত্তর: বিশ্বস্ত ডেভেলপারের ফ্রি অ্যাপ ব্যবহার করা যায়, তবে পারমিশন ও প্রাইভেসি পলিসি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: অ্যাপ ছাড়া কি নোটিফিকেশন লুকানো সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ। ফোনের সেটিংসের লক স্ক্রিন নোটিফিকেশন অংশ থেকে সংবেদনশীল কনটেন্ট লুকানো যায়।
প্রশ্ন: লক স্ক্রিন অ্যাপ কি ফোনের ব্যাটারি বেশি খায়?
উত্তর: অ্যানিমেশন ও লাইভ উইজেট বেশি থাকলে খরচ বাড়তে পারে। সাধারণ ও হালকা ডিজাইনের অ্যাপে এর প্রভাব কম।
প্রশ্ন: কোন লক পদ্ধতি সবচেয়ে নিরাপদ?
উত্তর: সাধারণত অক্ষর ও সংখ্যার মিশ্রণে তৈরি দীর্ঘ পাসওয়ার্ড সবচেয়ে নিরাপদ। এর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যোগ করলে সুবিধা ও নিরাপত্তা দুটোই পাওয়া যায়।
শেষ কথা
বর্তমানের বেশিরভাগ লক স্ক্রিন অ্যাপ মূল ইন্টারফেসের ওপর একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় স্তর যোগ করে। এগুলো দিয়ে স্টাইলিশ থিম, এলোমেলো কিপ্যাড ও নোটিফিকেশন ফিল্টারের মতো সুবিধা পাওয়া যায়, আর হার্ডওয়্যার সুরক্ষা ও এনক্রিপশনের দায়িত্বে থাকে অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব সিস্টেম। যেসব অ্যাপ অতিরিক্ত অ্যাডমিন অ্যাক্সেস চায়, বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেখায় বা অকারণে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সেগুলো ফোন ধীর করে দিতে পারে এবং ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই গুগল প্লে স্টোরের মতো অফিসিয়াল উৎস থেকে ভালো রেটিংয়ের অ্যাপ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে অ্যাপের পারমিশন দেখে নিন, লক স্ক্রিনে ব্যক্তিগত নোটিফিকেশন বন্ধ করুন এবং একটি শক্তিশালী পাসকোড দিন। এতেই আপনার ফোন থাকবে নিরাপদ, আর দেখতেও লাগবে আকর্ষণীয়। মনে রাখবেন, লক স্ক্রিন অ্যাপ সাজসজ্জা ও বাড়তি সুবিধার জন্য, আর ফোনের মূল সুরক্ষা সবসময় সিস্টেম লকের হাতেই।
ডাউনলোড লিংক
লক স্ক্রিন অ্যাপ:
