জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) হারিয়ে গেলে করণীয় ও নতুন কার্ড তোলার নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID কার্ড হারিয়ে গেছে? থানায় জিডি করার নিয়ম, ফি জমা এবং অনলাইনে নতুন স্মার্ট কার্ড উত্তোলনের বিস্তারিত গাইডটি জেনে নিন।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID কার্ড হারিয়ে গেছে? থানায় জিডি করার নিয়ম, ফি জমা এবং অনলাইনে নতুন স্মার্ট কার্ড উত্তোলনের বিস্তারিত গাইডটি জেনে নিন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) হারিয়ে গেলে করণীয়

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) হারিয়ে গেলে করণীয়: এ টু জেড বিস্তারিত গাইড

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি। ব্যাংক একাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম কেনা, পাসপোর্ট তৈরি, জমি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো জরুরি সেবায় জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। এটি শুধু আপনার পরিচয় বহন করে না, বরং রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে।

কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন ব্যস্ততা, অসাবধানতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ কার্ডটি হারিয়ে যেতে পারে। মানিব্যাগ চুরি হওয়া, ভ্রমণের সময় ব্যাগ হারিয়ে যাওয়া বা অসতর্কতার কারণে এনআইডি কার্ড হারানো একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্ডটি হারিয়ে গেলে অনেকেই সাময়িক আতঙ্কে ভুগে থাকেন এবং কী করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না।

আপনার এনআইডি কার্ডটি যদি হারিয়ে যায়, তবে সবার আগে মাথা ঠান্ডা রাখুন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission) হারিয়ে যাওয়া কার্ড পুনরায় উত্তোলনের জন্য অত্যন্ত সহজ এবং সুশৃঙ্খল একটি প্রক্রিয়া তৈরি করেছে। তবে কার্ডটি হারিয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো 'পরিচয় চুরি' বা আইডেন্টিটি থেফট (Identity Theft)। অপরাধী চক্র আপনার হারিয়ে যাওয়া কার্ড ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ, অবৈধ সিম রেজিস্ট্রেশন বা আর্থিক প্রতারণা করতে পারে। তাই কার্ড হারানোর সাথে সাথে কিছু দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। এই আর্টিকেলে আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে প্রাথমিক করণীয় থেকে শুরু করে নতুন কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) বা জিডি করা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ)

জাতীয় পরিচয়পত্র হারানোর পর আপনার প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (General Diary) বা জিডি করা। এটি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, কারণ:

  1. আইনি সুরক্ষা: কেউ যদি আপনার কার্ড ব্যবহার করে কোনো অপরাধ করে, তবে এই জিডি কপি আপনাকে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাবে।
  2. নতুন কার্ডের আবেদন: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, হারিয়ে যাওয়া কার্ড পুনরায় উত্তোলনের আবেদনের সাথে জিডি কপির মূল বা স্ক্যান কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

থানায় জিডি করার বিস্তারিত নিয়মাবলী

জিডি করার জন্য আপনাকে আপনার বর্তমান থানা (যে এলাকায় কার্ডটি হারিয়েছে বলে আপনার ধারণা) অথবা আপনার স্থায়ী ঠিকানার থানায় যেতে হবে।

জিডি করার জন্য যা যা লাগবে:

  • জিডি করার একটি লিখিত আবেদনপত্র (Application for GD)।
  • আপনার হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ডের ফটোকপি (যদি থাকে)। ফটোকপি না থাকলে কার্ডের নম্বরটি (NID Number) অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  • নিজের সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি (অনেক থানায় চাইতে পারে)।
  • আপনি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে, আপনার পরিবারের কোনো সদস্য উপযুক্ত প্রমাণসহ জিডি করতে পারবেন।

অনলাইনে জিডি (Online GD) করার উপায়

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ নাগরিকদের সুবিধার্থে অনলাইন জিডি (Online GD) সেবা চালু করেছে। আপনি চাইলে ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জিডি করতে পারেন।

  • ওয়েবসাইট লিংক: gd.police.gov.bd
  • প্রক্রিয়া: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ফর্মে কখন, কোথায় এবং কীভাবে কার্ডটি হারিয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ লিখে সাবমিট করতে হবে। পুলিশের ভেরিফিকেশন শেষে আপনাকে একটি জিডি নম্বর এবং প্রিন্ট করার জন্য একটি কপি দেওয়া হবে। নতুন এনআইডি আবেদনের সময় এই অনলাইন জিডির কপিটিও সমভাবে গ্রহণযোগ্য।

এনআইডি হারানোর জিডি লেখার একটি আদর্শ নমুনা (Format)

আপনি যদি নিজে হাতে লিখে থানায় জিডি করতে চান, তবে নিচের নমুনাটি অনুসরণ করতে পারেন:

বরাবর,
অফিসার ইনচার্জ
[থানার নাম], [জেলার নাম]。

বিষয়: জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্তির আবেদন।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি [আপনার পুরো নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম], সাং- [আপনার বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা]। আমি এই মর্মে থানায় লিখিতভাবে জানাচ্ছি যে, গত [হারানোর তারিখ] তারিখে আনুমানিক [সময়]-এর দিকে [যে এলাকায় হারিয়েছে তার নাম] এলাকা থেকে আমার মানিব্যাগটি/ব্যাগটি হারিয়ে যায়। উক্ত মানিব্যাগের ভেতরে আমার অন্যান্য কাগজের সাথে আমার মূল জাতীয় পরিচয়পত্রটিও ছিল।

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কার্ডটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় কার্ডটি কেউ কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

হারিয়ে যাওয়া পরিচয়পত্রের বিবরণ:

  • নাম: [আপনার নাম]
  • এনআইডি নম্বর/স্মার্ট কার্ড নম্বর: [নম্বরটি দিন]
  • জন্ম তারিখ: [আপনার জন্ম তারিখ]

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত অনুরোধ, আমার উপরোক্ত বিষয়টি আপনার থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করে আমাকে একটি অনুলিপি প্রদান করতে মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক,
[আপনার স্বাক্ষর]
[আপনার নাম]
[মোবাইল নম্বর]
[তারিখ]

নতুন এনআইডি কার্ড উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ

থানায় জিডি সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে নতুন কার্ড উত্তোলনের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ড রি-ইস্যু (Re-issue) করার জন্য খুব বেশি কাগজের প্রয়োজন হয় না। তবে নিচের ডকুমেন্টসগুলো হাতের কাছে রাখা আবশ্যক:

  1. থানার জিডি কপির মূল বা স্ক্যান কপি: অনলাইনে আবেদন করলে জিডি কপিটি স্পষ্ট করে স্ক্যান করে পিডিএফ (PDF) বা জেপিজি (JPG) ফরম্যাটে রাখতে হবে। সাইজ ১ মেগাবাইটের (1 MB) নিচে হতে হবে। অফলাইনে আবেদন করলে জিডির মূল কপি জমা দিতে হবে।
  2. ফি জমা দেওয়ার রশিদ (Bank/Mobile Banking Slip): সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র।
  3. হারিয়ে যাওয়া এনআইডির ফটোকপি: যদি আপনার কাছে হারিয়ে যাওয়া কার্ডের কোনো ফটোকপি থাকে, তবে সেটি সাথে রাখা ভালো।
  4. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (প্রয়োজনবোধে): অনেক সময় তথ্য যাচাইয়ের জন্য এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষার সনদের ফটোকপি চাওয়া হতে পারে।
  5. নাগরিকত্ব সনদ বা জন্ম নিবন্ধন: বিকল্প পরিচয় প্রমাণের জন্য এগুলো সহায়ক হতে পারে।

হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ড রি-ইস্যু (Re-issue) করার সরকারি ফি বা চার্জ

অনলাইনে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে আপনাকে সরকার নির্ধারিত ফি বা চার্জ জমা দিতে হবে। ফি জমা না দিলে অনলাইনে আবেদনের অপশনটি চালু বা 'Active' হবে না।

বর্তমানে এনআইডি কার্ড রি-ইস্যু করার ফি (ভ্যাট বাদে):

  • প্রথমবার হারালে বা নষ্ট হলে: সাধারণ (Regular): ২০০ টাকা (ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা), জরুরি (Urgent): ৩০০ টাকা (ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা)
  • দ্বিতীয়বার হারালে বা নষ্ট হলে: সাধারণ (Regular): ৩০০ টাকা (ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা), জরুরি (Urgent): ৫০০ টাকা (ভ্যাটসহ ৫৭৫ টাকা)
  • তৃতীয়বার বা তার বেশি বার হারালে: সাধারণ (Regular): ৫০০ টাকা (ভ্যাটসহ ৫৭৫ টাকা), জরুরি (Urgent): ১০০০ টাকা (ভ্যাটসহ ১১৫০ টাকা)

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে (বিকাশ/রকেট/নগদ) ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

নিচে বিকাশ (bKash) অ্যাপ ব্যবহার করে ফি জমা দেওয়ার ধাপগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  1. প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে থাকা bKash App-এ লগইন করুন।
  2. হোমস্ক্রিন থেকে Pay Bill (পে বিল) অপশনটি নির্বাচন করুন।
  3. এরপর একটু নিচে স্ক্রল করে Government Fees (সরকারি ফি) ক্যাটাগরিতে ক্লিক করুন অথবা সার্চ বক্সে NID Service লিখে সার্চ করুন।
  4. NID Service অপশনে ক্লিক করার পর Application Type হিসেবে "NID Info Correction / Duplicate" নির্বাচন করুন।
  5. আপনার NID Number (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর) প্রদান করুন।
  6. পরবর্তী ধাপে গেলে আপনি দেখতে পাবেন কত টাকা ফি দিতে হবে। এরপর আপনার বিকাশের পিন (PIN) নম্বর দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  7. পেমেন্ট সফল হলে একটি ডিজিটাল রিসিট বা ট্রানজ্যাকশন আইডি (Transaction ID) পাবেন। এটি স্ক্রিনশট দিয়ে বা ডাউনলোড করে সযত্নে সংরক্ষণ করুন।

অনলাইনে হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ডের (NID Re-issue) আবেদন করার নিয়ম

ফি সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আপনার মূল কাজ হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করা।

  1. ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভিস পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করুন। অ্যাকাউন্ট করা না থাকলে "রেজিস্টার (Register)" বাটনে ক্লিক করুন।
  2. তথ্য পূরণ: আপনার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ এবং ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করুন।
  3. ঠিকানা যাচাই: আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা) নির্বাচন করুন।
  4. মোবাইল ভেরিফিকেশন: আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোড (OTP) যাবে। কোডটি বসিয়ে সাবমিট করুন।
  5. ফেস ভেরিফিকেশন (Face Verification): স্ক্রিনে একটি QR কোড আসবে। আপনার মোবাইলে "NID Wallet" অ্যাপটি ইনস্টল করে ওই QR কোডটি স্ক্যান করতে হবে। এরপর অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
  6. অ্যাকাউন্টে লগইন ও রি-ইস্যু আবেদন: প্রোফাইলের ডান দিকে বা মেনুতে "রি-ইস্যু (Re-issue)" অপশনে ক্লিক করুন।
  7. কারণ নির্বাচন ও জিডি কপি আপলোড: কার্ড রি-ইস্যু করার কারণ হিসেবে "Lost" বা "হারিয়ে গেছে" অপশনটি নির্বাচন করুন এবং স্ক্যান করা জিডির কপি আপলোড করুন।
  8. আবেদন সাবমিট: সব তথ্য ঠিক থাকলে "Submit (সাবমিট)" বাটনে ক্লিক করে আবেদনটি সম্পন্ন করুন।

আবেদন ট্র্যাকিং এবং নতুন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড (NID Download Online)

আবেদন সাবমিট করার পর নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপনার আবেদন এবং জিডির কপি যাচাই-বাছাই করবেন। সব ঠিক থাকলে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপনার আবেদনটি অনুমোদন (Approve) করা হয়।

কীভাবে বুঝবেন আবেদন অনুমোদন হয়েছে?
আপনার আবেদনটি যখনই অনুমোদন হবে, তখন আপনার রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বরে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি কনফারমেশন এসএমএস (SMS) আসবে।

অনলাইন থেকে এনআইডি ডাউনলোড:
এসএমএস পাওয়ার পর পুনরায় ওয়েবসাইটে লগইন করুন। লগইন করার পর প্রোফাইলের ড্যাশবোর্ডে "ডাউনলোড (Download)" অপশনটি দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করলেই আপনার নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি রঙিন পিডিএফ (PDF) কপি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এই কপিটি প্রিন্ট এবং লেমিনেটিং করে সবখানে ব্যবহার করতে পারবেন।

অফলাইনে বা সরাসরি নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদনের নিয়ম (Offline Process)

যাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা আছে তারা সরাসরি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন:

  1. ফি জমা দেওয়া: বিকাশ/রকেট/নগদের মাধ্যমে অনলাইনে ফি দিন অথবা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যাংকে টাকা জমা দিন।
  2. হারানো ফর্ম সংগ্রহ: উপজেলা নির্বাচন অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে 'জাতীয় পরিচয়পত্র হারানো বা রি-ইস্যু ফর্ম' সংগ্রহ করুন।
  3. ফর্ম পূরণ ও কাগজপত্র সংযুক্ত করা: ফর্মটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এর সাথে জিডির মূল কপি, ফি জমা দেওয়ার রশিদ এবং হারিয়ে যাওয়া এনআইডির ফটোকপি (যদি থাকে) পিন আপ করে সংযুক্ত করুন।
  4. অফিসে জমা দেওয়া: কাগজপত্র নিজ উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়ে একটি টোকেন সংগ্রহ করুন।
  5. কার্ড সংগ্রহ: টোকেনে উল্লেখিত তারিখে অফিসে গিয়ে আপনার নতুন পরিচয়পত্রটি সংগ্রহ করুন।

হারিয়ে যাওয়া স্মার্ট কার্ড (Smart NID Card) কীভাবে পাবেন?

যাদের স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেছে, আবেদনের পর তাদের পুনরায় স্মার্ট কার্ডই দেওয়া হবে। তবে এটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে আসে বলে সময় লাগতে পারে। সাময়িক সময়ের জন্য অনলাইন কপি ডাউনলোড করে কাজ চালাতে পারবেন। নতুন স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হয়ে উপজেলা অফিসে আসলে আপনার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্মার্ট কার্ডের স্ট্যাটাস চেক করার উপায়:
আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন: SC <Space> NID <Space> আপনার ১৭ বা ১০ ডিজিটের এনআইডি নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন 105 নম্বরে।

দালাল বা প্রতারক চক্র থেকে সাবধানতা

এনআইডি কার্ড উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করে দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া কাউকে কোনো অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই অপরিচিত কাউকে দেবেন না।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ) - এনআইডি কার্ড হারানো বিষয়ে

প্রশ্ন ১: জিডি (GD) করা ছাড়া কি নতুন এনআইডি কার্ড তোলা সম্ভব?
উত্তর: না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে পুনরায় উত্তোলনের জন্য থানায় জিডি করা এবং জিডির কপি আবেদনের সাথে জমা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।

প্রশ্ন ২: আমার হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বা নম্বর মনে নেই, এখন কী করব?
উত্তর: উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম এবং জন্ম তারিখ ও ঠিকানা বললে তারা ডাটাবেজ থেকে আপনার এনআইডি নম্বরটি বের করে দিতে পারবে। অথবা ১০৫ নম্বরে কল করেও তথ্য জেনে নিতে পারেন।

প্রশ্ন ৩: অনলাইনে আবেদন করার কতদিন পর নতুন কার্ড পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত সব তথ্য এবং জিডি কপি ঠিক থাকলে আবেদন সাবমিট করার ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যেই আবেদন অনুমোদন হয়ে যায় এবং অনলাইন থেকে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করা যায়।

প্রশ্ন ৪: আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি কোনো আইনি ঝামেলা বা জেল-জরিমানা হয়?
উত্তর: আইডি কার্ড হারিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো জেল বা জরিমানার বিধান নেই। আপনাকে শুধু পুনরায় কার্ড তোলার জন্য সরকার নির্ধারিত একটি ফি প্রদান করতে হবে।

উপসংহার

জাতীয় পরিচয়পত্র আমাদের নাগরিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি হারিয়ে গেলে দুশ্চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই আপনার হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ডটি পুনরায় হাতে পেতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কার্ড হারানোর সাথে সাথে থানায় একটি জিডি করে ফেলা। আশা করি, এই গাইডটি আপনার অনেক উপকারে এসেছে।

About the author

Author

Masum Billah

আসসালামু আলাইকুম! আমি মাসুম বিল্লাহ, 'Priyo Topic' ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও কন্টেন্ট রাইটার। প্রযুক্তি, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনের দরকারি নানান তথ্য সহজ ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। নিত্যনতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে সাথেই থাকুন!

Post a Comment

কমেন্ট করতে Enter Comment ক্লিক করুন

Join the conversation