![]() |
| এনআইডি (NID) কার্ডের জন্মতারিখ সংশোধন এখন মাঠ পর্যায় থেকেই |
এনআইডি (NID) কার্ডের জন্মতারিখ সংশোধন এখন মাঠ পর্যায় থেকেই: জেনে নিন বিস্তারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ডে ভুল থাকা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য এক দীর্ঘদিনের ভোগান্তির নাম। বিশেষ করে নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখের ভুলের কারণে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন নানা কাজে মানুষকে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়েছে বড় সিদ্ধান্ত। এখন থেকে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনগুলো বিভাগীয়, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের মাঠ কর্মকর্তা বা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা যাবে।
আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো এনআইডি-র জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কীভাবে আবেদন করতে হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত? (মাঠ পর্যায়ে এনআইডি সংশোধনের সুবিধা)
পূর্বে এনআইডির জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংশোধন (যেমন—জন্মতারিখ বা বয়সের সংশোধন) নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্র অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বা এনআইডি অনুবিভাগের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে সারা দেশের লাখ লাখ আবেদন জমে গিয়ে দীর্ঘ জট তৈরি হতো।
মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা বা স্থানীয় নির্বাচন অফিসগুলোতে এই দায়িত্ব দেওয়ার ফলে:
- ভোগান্তি হ্রাস: ঢাকায় যাতায়াত বা নির্বাচন অফিসে দীর্ঘদিন ঘুরঘুর করার দিন শেষ হচ্ছে।
- দ্রুত নিষ্পত্তি: স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরজমিনে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধন অনুমোদন দিতে পারবেন।
- ঘুষ ও দালালচক্র রোধ: সরাসরি স্থানীয় অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ হওয়ায় দালালদের ওপর নির্ভরতা কমবে।
জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য যেসব তথ্য বা ডকুমেন্ট প্রয়োজন
জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে কেউ বয়স জালিয়াতি করতে না পারে। তাই আবেদন করার সময় সঠিক ও সত্য প্রমাণপত্র জমা দেওয়া জরুরি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন হতে পারে:
- এসএসসি বা সমমানের সনদ: (যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদূর্ধ্ব)।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ: (ডিজিটাল ১৮ ডিজিটের বা ১৭ ডিজিটের যাচাইকৃত কপি)।
- পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / এমপিও কপি / সার্ভিস বই: (চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বইয়ের সত্যায়িত কপি)।
- পেশাদার বা মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট: (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য)।
- নাগরিক সনদপত্র: স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: জন্মতারিখের পার্থক্য যদি বড় আকারের হয় (যেমন ৫ বছর বা তার বেশি), সেক্ষেত্রে বিশেষ তদন্ত সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ বা আঞ্চলিক কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।
কীভাবে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করবেন?
অনলাইনের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই খুব সহজে এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল এনআইডি ওয়েবসাইট (services.nidw.gov.bd) বা NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং লগইন করুন।
২. সংশোধন অপশন নির্বাচন
প্রোফাইলে গিয়ে 'সংশোধন' অপশনে ক্লিক করে জন্মতারিখ পরিবর্তন করুন এবং আপনার সঠিক জন্মতারিখটি লিখুন।
৩. ফি প্রদান
নির্ধারিত এনআইডি সংশোধন ফি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির) মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
৪. কাগজপত্র আপলোড
আপনার সঠিক জন্মতারিখ প্রমাণের পক্ষে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি সুন্দরভাবে আপলোড করুন।
৫. আবেদন জমা ও মাঠ পর্যায়ের তদন্ত
আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে যাবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা আপনাকে মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকতে পারেন অথবা সরজমিনে তদন্ত শেষে অনুমোদন প্রদান করবেন।
উপসংহার
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ নাগরিকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। তবে জালিয়াতি রোধে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। তাই আপনার এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করার আগে সঠিক প্রমাণপত্র ও দলিলাদি হাতের কাছে রাখুন এবং সঠিক নিয়মে আবেদন সম্পন্ন করুন।
