![]() |
| এনআইডি সংশোধন পদ্ধতি ২০২৬: নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের নতুন নির্দেশনা |
এনআইডি সংশোধন পদ্ধতি ২০২৬: নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করলো ইসি
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের জটিলতা কমাতে ও সেবা সহজ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু সংশোধনের কাজ মাঠ পর্যায় থেকেই সম্পন্ন হবে। তবে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা হয়েছে।
আজকের লেখায় আমরা জানবো নতুন এই নিয়মের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কী কী সুবিধা হবে এবং সংশোধন আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
মাঠ পর্যায় থেকেই এনআইডি তথ্য সংশোধনের নতুন সুযোগ
আগে এনআইডি কার্ডের যেকোনো ছোটখাটো তথ্য বদলাতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
- শিক্ষা সনদের সাহায্যে জন্মতারিখ সংশোধন: আপনার যদি অনলাইনে যাচাই করা যায় এমন কোনো বোর্ড পরীক্ষার সনদপত্র (যেমন—এসএসসি বা এইচএসসি) থাকে, তবে জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদনটি জেলা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসেই নিষ্পত্তি করা হবে।
- দ্রুত সেবা প্রাপ্তি: আঞ্চলিক বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা প্রদান করায় এখন থেকে নাগরিকদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় এনআইডি কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করার ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
যেসব ক্ষেত্রে ডিজির (DG) অনুমোদন নিতে হবে
সব ধরনের পরিবর্তনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হয়নি। জালিয়াতি ও জালিয়াতিভিত্তিক তথ্য পরিবর্তন ঠেকাতে কিছু বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের (ডিজি) সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে:
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট: মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ব্যবহার করে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থাৎ ডিজি অফিস থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে।
- পুরো নাম পরিবর্তন: যদি আবেদনকারী নিজের নাম কিংবা বাবা-মায়ের নামের আংশিক সংশোধনের বদলে পুরো নাম পরিবর্তন করতে চান, তবে সেটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এনআইডি মহাপরিচালক দেবেন।
একবারের বেশি সংশোধন নয়: ইসির কড়া সতর্কতা
নতুন এই নীতিমালায় একটি অত্যন্ত কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
জরুরি বিষয়: জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখ যদি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা হয়, তবে জীবনে মাত্র একবারই সেই সুযোগ পাওয়া যাবে। একবার তথ্য সংশোধন হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা আর কোনোভাবেই দ্বিতীয়বার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
তাই যেকোনো সংশোধনের আবেদন করার আগে বানান এবং তথ্যের সঠিকতা একাধিকবার পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সংশোধনের ধরণ ও আবেদন নিষ্পত্তির নিয়ম (এক নজরে)
| সংশোধনের বিবরণ | নিষ্পত্তিকারী কর্তৃপক্ষ / শর্ত |
|---|---|
| সাধারণ শিক্ষা সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ পরিবর্তন | মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা (উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিস) |
| উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ পরিবর্তন | মহাপরিচালক (এনআইডি অনুবিভাগ) |
| নিজের বা পিতা-মাতার পুরো নাম পরিবর্তন | মহাপরিচালক (এনআইডি অনুবিভাগ) |
| গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের অনুমতি সীমানা | সর্বোচ্চ ১ বার পরিবর্তনযোগ্য |
এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার আগে যা করবেন
- সনদপত্র যাচাই করুন: আবেদন জমা দেওয়ার পূর্বে আপনার শিক্ষা সনদটি অনলাইনে বোর্ড রেজাল্টের ওয়েবসাইটে সার্চ দিয়ে তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত হোন।
- সঠিক ডকুমেন্ট প্রদান: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে জাতীয় পরিচয়পত্রের অফিশিয়াল পোর্টালে আপলোড করুন।
- সতর্কতা অবলম্বন: ভুল তথ্যে আবেদন করলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করা কঠিন হতে পারে, তাই বানান সঠিকভাবে চেক করুন।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
