![]() |
| ধেয়ে আসছে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী 'এল নিনো' |
পৃথিবী এখন এমন এক অজানা ও ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শক্তিশালী হয়ে ওঠা 'এল নিনো' (El Niño)-এর প্রভাবে পুরো বিশ্ব বর্তমানে "চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে" প্রবেশ করেছে।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সাথে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় যুক্ত হয়ে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে?
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) দেওয়া সর্বশেষ তথ্য ও পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আবহাওয়াবিদদের মতে এটি ১৯৫০ সালের পর থেকে পৃথিবীতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে।
বিশ্বের কোন অঞ্চলে কেমন প্রভাব পড়বে?
এল নিনোর কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে ব্যাপক ও আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর প্রভাব একেক অঞ্চলে একেক রকম হতে পারে:
- খরা ও দাবানলের ঝুঁকি: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং মারাত্মক দাবানলের সৃষ্টি হতে পারে।
- বন্যা ও অতিবৃষ্টির শঙ্কা: অন্যদিকে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় অতিরিক্ত মাত্রায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ভয়াবহ বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আমাদের করণীয় ও প্রস্তুতি
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এল নিনোর এই ধাক্কা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই চরম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দেশের সরকারকে এখন থেকেই আগাম সতর্কতা জারি এবং জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ববাসীকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
