সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে সংবাদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত এই ভিডিওটি সোমবার (২২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওর কিছু অংশে তাকে ফোনে কথা বলতে এবং পরবর্তীতে ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, দৃশ্যটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে এটি কোন জায়গার দৃশ্য, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

এআই দাবি ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের মতামত

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল—ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

তবে তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্ট-চেকিং) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফ্যাক্ট-চেকারদের মতে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কিংবা ডিজিটাল কারসাজির (ম্যানিপুলেশন) কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে যেসব যান্ত্রিক ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওতে তা দেখা যায়নি। ফলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় এটিকে বাস্তব ভিডিও বলেই ধরে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

দলীয় বক্তব্য ও দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাখ্যা

বিষয়টি নিয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে আসার পর গাজী নজরুল ইসলামের সাথে তাদের কথা হয়েছে। এমপি জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ের তারিখ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও কিছুদিন আগেই বিয়েটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ওই তরুণীর বয়স ১৮ বছর ২ মাস।

তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি

অনলাইনে এই ব্যক্তিগত ভিডিওটি কীভাবে ছড়ালো—তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলো, পুরো বিষয়টি জামায়াতের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।