শিরোনাম:
প্রিয় টপিক জ্ঞান আর কৌতূহলের রঙিন মিলন! আপনার প্রিয় বিষয় এখানে জীবন্ত! প্রিয় টপিকে ডুব দিয়ে আবিষ্কার করুন জ্ঞান ও বিনোদনের নতুন জগৎ। প্রতিটি ক্লিকে খুলুন সম্ভাবনার দুয়ার!

১৫ বছর পর এনআইডি (NID) নবায়ন বাধ্যতামূলক করছে নির্বাচন কমিশন

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড প্রদানের ১৫ বছর পর এর নবায়ন বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। বিস্তারিত জানুন।
১৫ বছর পর এনআইডি (NID) নবায়ন বাধ্যতামূলক করছে নির্বাচন কমিশন

১৫ বছর পর এনআইডি কার্ড নবায়ন বাধ্যতামূলক করার পথে নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)। ইস্যু করার ১৫ বছর পর এই পরিচয়পত্র নবায়ন করাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে আইন ও বিধিতে নবায়নের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা কড়াকড়িভাবে মানা হয় না। তবে নাগরিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে জটিলতা এড়াতে এখন এটি বাধ্যতামূলক করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

কেন এই নবায়ন জরুরি?

ইসি সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়সীমা। এই সময়ের ব্যবধানে মানুষের শারীরিক গঠন, বিশেষ করে চেহারায় স্বাভাবিকভাবেই অনেক পরিবর্তন আসে। এর বাইরেও কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:

  • স্বেচ্ছায় পরিবর্তন: অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের চেহারায় পরিবর্তন আনেন কিংবা সার্জারির মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে থাকেন।
  • বায়োমেট্রিক সমস্যা: বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঙুলের ছাপের গুণগত মান কমে যায় বা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

এর ফলে অনেক সময় আসল ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নানা ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব কারণেই নবায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে।

আইন ও বিধিতে যা বলা আছে

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ এর ৭(১) ধারা অনুযায়ী, একটি এনআইডি কার্ড প্রদানের তারিখ থেকে এর মেয়াদ থাকে ১৫ বছর। একই আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে নাগরিকদের কার্ড নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া

জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নাগরিকদের নবায়নের জন্য 'ফরম-৫' ব্যবহার করতে হবে। এটি সরাসরি অফিসে গিয়ে বা ইসির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।

  • ফি প্রদান ও ধরন: বিধি ৮(২) অনুযায়ী, 'সাধারণ' বা 'জরুরি' ক্যাটাগরিতে ফি জমা দিতে হবে। সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে জমার রশিদের মূল কপি এবং অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে স্ক্যান কপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
  • আবেদন জমাদান: 'জরুরি' আবেদনগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনে এবং 'সাধারণ' আবেদনগুলো স্থানীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।
  • প্রাপ্তিস্বীকারপত্র: আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফরমের 'ক' অংশটি স্বাক্ষর করে আবেদনকারীকে ফেরত দেবেন। অনলাইনে আবেদন করলে এই অংশটি ইমেইল বা মোবাইল নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান অবস্থান

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে, নবায়নের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। বর্তমানে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে অনেকেই নিজ উদ্যোগে নতুন কার্ড নিচ্ছেন। তবে ১৫ বছর পর চেহারার পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিতে না পারে, সেই ঝুঁকি এড়াতেই এটি পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কমিশনে আলোচনা চলছে।

Author By

Author

Masum Billah

আসসালামু আলাইকুম! আমি মাসুম বিল্লাহ, 'Priyo Topic' ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও কন্টেন্ট রাইটার। প্রযুক্তি, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনের দরকারী নানা তথ্য সহজ ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। নিত্যনতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে সাথেই থাকুন!

Post a Comment

কমেন্ট করতে Enter Comment ক্লিক করুন

Join the conversation